ইসরায়েলি ৪ জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর, বিনিময়ে মুক্তি পাচ্ছে শত শত ফিলিস্তিনি

নানা নাটকীয়তা শেষে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলি চারজন নিহত জিম্মির দেহাবশেষ হস্তান্তর করেছে। এর পরই চুক্তি অনুযায়ী শত শত ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিতে শুরু করে ইসরায়েল।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত বিনিময়ের অংশ হিসেবে বুধবার গভীর রাতে হামাস ইসরায়েলি জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তর করে। যখন তাদের মরদেহ ইসরায়েলে পৌঁছাচ্ছিল তখন রাত ১টার দিকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিদের বাসে তুলে দেওয়া হচ্ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অফিস ঘোষণা করেছে, রেড ক্রস জিম্মির মৃতদেহগুলো ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। যা প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তাদের কেরেম শালোম ক্রসিংয়ে নিয়ে আসা হয়। সে সঙ্গে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে জিম্মির মরদেহ হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে হামাস। এতে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ৬২০ ফিলিস্তিনির মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও প্রবল হয়। ইসরায়েল বলে, মরদেহ হস্তান্তরে হামাস পরিচালিত প্রচারণা অনুষ্ঠানের সমাপ্তির নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের মুক্তি স্থগিত রাখবে। অপরদিকে ফিলিস্তিনিদের মুক্তি না মিললে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় না বসার ঘোষণা দেয় হামাস।

এ নিয়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে। অবশেষে নির্ধারিত সময়ের কয়েক দিন পর এ বিনিময় হলো। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলের কারাগার থেকে এ দফায় ৬২০ ফিলিস্তিনি মুক্তি পাবে। রেড ক্রসসহ বন্দি পরিবহনে যুক্তরা আশা করছেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে তারা ইসরায়েল থেকে ফিলিস্তিনে পৌঁছাবে।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৯৭ জন ফিলিস্তিনিকে মিসরের কাছে হস্তান্তর করেছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের বহনকারী বাস গাজা হয়ে পশ্চিম তীরে পৌঁছেছে। সেখানে হাজারো জনতা তাদের স্বাগত জানায়। স্বজনরা মুক্তিপ্রাপ্তদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ ছাড়া ৩৭ জন বন্দি রামাল্লায় পৌঁছেছে। পূর্ব জেরুজালেমের আরও পাঁচজন বন্দিকে রাশিয়ান কম্পাউন্ড আটক কেন্দ্র থেকে ইসরায়েলি পুলিশ শহরের তাদের বাড়িতে নিয়ে গেছে। কিছু বন্দিকে খান ইউনিসের গাজা ইউরোপীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারাও মুক্ত বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

নিউজটি শেয়ার করুন