তিনটি নির্বাচনের স্মৃতি এবং “ম্যানেজড’ নির্বাচনের ভীতি (পর্ব ১)
সাব্বির মুহাম্মাদ নাঈম, ব্যাংকার এবং রাজনীতির পাঠক
০২ জানুয়ারী ২০২৬ শুক্রবার নিজ নির্বাচনী এলাকা ডুমুরিযায় এক সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘এবার আর যেনতেন নির্বাচন করতে দেয়া হবে না। ১৪,১৮, ২৪ মার্কা নির্বাচন করতে দেয়া হবে না’ (সূত্র: প্রথম আলো, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬)। ইসলামপন্হীদের এই সরলতা বা রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ঐতিহাসিক। এর জন্য এদেরকে দেশে দেশে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। বস্তুত: এবার ১৪,১৮, ২৪ এর মত নির্বাচন হবে না। কারণ, এগুলো ছিল ফ্যাসিস্ট শাসকের অধীনে হ্ওয়া জবরদস্তিমূলক একতরফা নির্বাচন। বর্তমান অন্তবর্তী সরকার তো ফ্যাসিস্ট বা স্বৈরাচার নয়। তাই ১৪,১৮, ২৪ মার্কা নির্বাচন করতে না দেয়ার হুমকি অর্থহীন। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন না হ্ওয়ার এই আশংকা অর্থবহ এবং একই সাথে উদ্বেগজনক। মিয়া গোলাম পরোয়ারের ঐ বক্তব্যের দুইদিন পর নির্বাচন নিয়ে সত্যিকার যে শংকা ধীরে ধীরে দানা বাঁধছে তা প্রকাশ করেন দেশের খ্যাতিমান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী। ০৪ জানুয়ারী ২০২৬, নাগরিক প্লাটফর্ম ভয়েস ফর রিফর্ম এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রেইন কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘আঞ্চলিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ শীর্ষক সেমিনারে অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী আশংকা প্রকাশ করে বলেন ‘আগামী ফেব্রুয়ারীতে একটি ম্যানেজড নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এটা হলে বাংলাদেশ সংকট হতে বের হতে পারবে না’ (সূত্র: প্রথম আলো, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬)।
০৭ জানুয়ারী ২০২৬ এনসিপি নেতা এবং জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সিপাহসালার হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে লাইভে এসে অভিযোগ করেন- ‘নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও পুলিশ গুলশানের আন্ডারে চলে গেছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো বলেন: ‘গত দেড় দশকে যেসব মিডিয়া তারেক জিয়াকে মাফিয়া বানাতে চক্রান্ত করেছে, তারাই এখন বিএনপির চেয়ে বড় বিএনপি হ্ওয়ার চেষ্টা করছে। এটা আশংকাজনক (সূত্র: আমার দেশ, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬)।
অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর বক্তব্যের পর বিএনপির প্রতিপক্ষ শিবির হতে একে একে এ ধরনের অভিযোগ আরো আসতে থাকে। ম্যানেজড নির্বাচনের তীর দৃশ্যত বিএনপির দিকে। ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং এনসিপি নেতারা সিইসির সাথে বৈঠক শেষে দেশে একটি পাতানো নির্বাচনের চেষ্টা চলছে এবং প্রশাসনের বড় অংশ সুনির্দিষ্ট একটি দলের পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন (সূত্র: আমার দেশ, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬)। এনসিপির মুখপাত্র এবং জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সিপাহসালার আসিফ মাহমুদের অভিযোগ ছিল আরো গুরুতর: ‘বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান একটি পার্টি অফিসের দিকে তাদের কেবলা ঠিক করে ফেলেছেন (সূত্র: প্রথম আলো, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬)।
’মানেজড’ বা পাতানো যাই বলুন এ ধরনের একটি নির্বাচনের আশংকা বা গুঞ্জন দানা বাধে মূলত বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকালীন দেশে আসা নিয়ে তারেক রহমান একটি স্পর্শকাতর পোস্ট দেন তার ফেসবুক পেইজে। ঐ পোস্টে তিনি দাবি লেখেন: “ এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাংখা যেকোনো সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশ্ও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হ্ওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী”।
ফেসবুকে এই পোস্ট দেয়ার মাসখানেকের মধ্যে তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।অর্থাৎ, এই অল্প সময়ের মধ্যেই ‘রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত’ হয়। কিন্তু কি সেই রাজনৈতিক বাস্তবতা, কি সেই প্রত্যাশিত পর্যায় তা সাধারণ জনগণ জানে না। তারেক রহমান বা তার দল খোলাসা করেনি। তাই নানা রাজনৈতিক অনুমান এবং গুঞ্জন সঙ্গত।
খুনি হাসিনার পলায়ন ঘটে ০৫ আগস্ট ২০২৪, সোমবার। দুই দিন যেতে না যেতেই ০৭ আগস্ট বুধবার নয়াপল্টনে সমাবেশ ডেকে বিএনপি তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দাবি করে। ক্ষমতায় বসতে বিএনপির এই অস্থিরতা চারিদিকে সমালোচনার মুখে পড়ে। মানুষ বিএনপির এই ‘ক্ষমতার জন্য আর তর সইছে না’ মনোভাব ভালোভাবে নেয়নি। ফলে বিএনপির হাইকমান্ড নির্বাচন প্রশ্নে কিছুটা বিরতি নেয়। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। এ প্রসঙ্গে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। ০৬ আগস্ট ২০২৪ অফিস আদালত খোলা ছিল। চারিদিকে শংকা আর নিরাপত্তাহীনতা। নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই অফিসে পৌঁছে যাই। নিজের সিটে বসতে না বসতেই দেখলাম পাশের চেম্বার হতে বেরিয়ে লিফলেট হাতে এগিয়ে আসছেন প্রতিষ্ঠানেরই একজন স্টাফ। হাতে নিয়ে দেখলাম জিয়া পরিষদের কমিটি পরিচিতির লিফলেট। কয়েক বছর আগে গঠিত কমিটি। এতদিন গুপ্ত অথবা সুপ্ত অবস্থায় ছিল। নির্লজ্জতারও একটা সীমা থাকা উচিত। পরাজিত খুনির পলায়নপর বাহিনী তখনো খুনের নেশায় মত্ত, স্বজনহারাদের আহাজারীতে ভারী আকাশ বাতাস, আহতরা কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বিছানায়। এসব যেন কোন দাগই কাটেনি তাদের মনে। হাসিনার পলায়নের পরদিন প্রথম প্রহরেই তাদের প্রস্তুতি দখলদারী প্রতিষ্ঠার ।
অপরদিকে এখন যারা বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষরূপে আবির্ভূত হয়েছে তারা জুলাই বিপ্লবের ক্রেডিটবাজী না করে জুলাইয়ের আবেদনকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করার মানসে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছে। সবার আগে পরিচিতিসহ জুলাই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরী, প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেয়া, আহতদের চিকিৎসার জন্য সাধ্যের মধ্যে সবটুকু করার মানসে সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকা এবং সর্বোপরি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্খায় সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ। ফলে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যে নতুন স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্খার জন্ম হয়েছে তা ইসলামপন্হীদের মাধ্যমে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরীর মানসে সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান ও ভূমিকার কারণে জনমনে এই প্রত্যয় দৃঢ় হতে থাকে যে জুলাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইসলামপন্হীরাই সবচেয়ে বেশি বিশ্বস্ত। এই ধারাবাহিকতায় জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তায় এক ধরনের উল্লম্ফন দৃশ্যমান হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রচেষ্টা দলটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে আরো গতিশীল করে। তবে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা সমাজের সকল স্তরকে স্পর্শ করার প্রধান কারণ হলো: যে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত খুনি হাসিনার মত ফ্যাসিস্ট-স্বৈরাচার তৈরী করে তা ভেঙ্গেচুরে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরীর পক্ষে জামায়াতের দৃঢ় অবস্থান অবস্থান গ্রহণ এবং জুলাই পরবর্তী তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সেই অঙ্গীকারের প্রতি নিজেদের বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেয়া।
অপরদিকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের উদীয়মান প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করতে গিয়ে ভুল পথে হেটেছে কিংবা তাদের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সাথে জুলাইকে ধারণ করার এবং জুলাইয়ের আকাঙ্খা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত না হয়ে অংশত জুলাইকে ডিজ্ওন করে ৭১-কে হাতিয়ার করেছে, ৭১- প্রশ্নে জামায়াতের নাজুকতাকে ব্যবহার করতে চেয়েছে। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার জন্য নাজুক অবস্থানকে টার্গেট করা দোষের কিছু নয়। কিন্তু সমস্যা হলো বিএনপি এ কাজে যে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেছে তা হলো পলায়নকালে হাসিনা এবং আ্ওয়ামীগের ফেলে যা্ওয়া ভোতা এবং অধিক ব্যবহারে জরাজীর্ণ। প্রতিটি অস্ত্রে হাসিনার দু:শাসনের জুলুম-নিপীড়নের সাক্ষ্য লেখা। সর্বোপরি হাসিনার এসব পরিত্যক্ত এসব চেতনার অস্ত্র ব্যবহারে বিএনপিকে যারা উদ্বুদ্ধ করেছে, সহযোগীতা করেছে তাদের একাংশ হাসিনা রেজিমের গুণমুগ্ধ শাহবাগীখ্যাত বিশেষ সম্প্রদায়। আর এদের সাথে আছে বিএনপির ভিতরে থাকা সুপ্ত শাহবাগীরা। এরা সবাই মিলে জামায়াত-শিবিরকে আঘাত করার জন্য বামপাড়া থেকে প্রথম যে অস্ত্রটি ভাড়া করে আনে তা হলো: ‘তুমি ও জানো আমি ও জানি, সাদিক কায়েম পাকিস্তানী’। হাসিনার পরিত্যক্ত এই শাহবাগি অস্ত্র চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই অস্ত্রের ব্যবহার ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সাদিক কায়েমসহ তার প্যানেল ডাকসুতে বিপুল বিজয় লাভ করেছে। সেই বিজয় রথ জাহাঙ্গীর নগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম হয়ে এখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করছে।
পরপর পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরের ভুমিধ্বস বিজয়ে বিএনপি দৃশ্যত নার্ভাস হয়ে পড়লেও তারা জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ৭১-এর চেতনার অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রাখে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডানপন্থার উত্থান দেখতে শুরু করেন। এখানেও হাসিরার পরিত্যক্ত অস্ত্রের ব্যবহার । বিএনপির চেয়ারপারসন লন্ডনে বসে দেশে মৌলবাদের উত্থান দেখতে পান। সর্বোপরি, বিএনপিতে একটি অভাবিত আদর্শিক বাঁক পরিবর্তন ঘটে যায়। বিএনপি খোলামেলাভাবে মধ্য ডান থেকে মধ্য বামপন্হী আদর্শকে গ্রহণ করে। এতে তৃণমূলে বিএনপির জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী হলেও হাসিনার বিগত ১৭ বছরের দু:শাসনে যারা জঙ্গি-মৌলবাদের কোরাস গেয়ে খুনি হাসিনার সব অপকর্মের বৈধতা উৎপাদন করতো সেইসব বলয়ে বিএনপির জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। বিএনপি ক্রমাগত মাঠের বাস্তবতা ও দাবি উপেক্ষা করেছে এবং ইন্ডিয়ান হেজিমনির এদেশীয় সফট পা্ওয়ার খ্যাত সেক্যুলার এলিট শিবিরের আদর আপ্যায়ন মাধ্যমে জনপ্রিয়তা উপভোগ করছে। বিএনপির এই অভাবিত আচরণের নগদ ফলাফল হলো ৫ আগস্টের পরে সবাই যেটা ধরে নিয়েছিল যে নির্বাচনে বিএনপি জিতবে এবং জামায়াতে ইসলামী একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হবে তা প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একটি ’ম্যানেজড’ নির্বাচন হ্ওয়ার যে শংকা তার মোমেন্টাম এখানেই।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বিএনপির জনপ্রিয়তার উপর কোন ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে বিএনপির নার্ভাসনেস কেটে গিয়ে সেখানে জায়গা নিয়েছে দম্ভ আর অহংকার। গণভোটে বিএনপির অবস্থান আসলে না-এর পক্ষে যদিও সে কথা মুখে বলছে না।আবার হ্যা-এর পক্ষেও তেমন কোন প্রচারণা তাদের নাই। না-এর পক্ষে অবস্থান নেয়া জুলাইকে অস্বীকার, অকার্যকর এবং ব্যর্থ করে দেয়ার শামিল। এটা্ও দম্ভ এবং অহংকারজাত। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে তাদের এই দম্ভ এবং অহংকারের পিছনে কি? সেটা কি একটি ম্যানেজড নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার নিশ্চয়তা? তবে কি বিএনপির রাজনৈতিক মিত্র গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূরের বক্তব্যই সত্য? গত ১১ জানুয়ারী রাতে নূর তার নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে এক ওরস মাহফিলে বলেন: “ আমরা বলতে পারি বিজয় আমাদের হয়েই গেছে। ১২ ফেব্রুয়ারী শুধু আনুষ্ঠানিকতা হবে” (সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬)। ভিপি নূরের এ বক্তব্য ম্যানেজড নির্বাচনের সুস্পষ্ট আলামত। নূরের এই বক্তব্যের মাত্র তিন দিন পর ঢাকার একটি প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকার একজন সাবেক সাংবাদিক ফেসবুকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট দেন যা প্রকারান্তরে নূরের বক্তব্যকেই সমর্থন করে। ঐ সাংবাদিক তার পোস্টে লিখেছেন: “ ঢাকার সম্পাদকদের মধ্যে আমার পছন্দের তালিকায় সবসময়েই শীর্ষে রয়েছেন মতিউর রহমান চৌধুরী, মতিউর রহমান। গেলো কয়েক সপ্তাহে তাদের কথা শুনেও যদি আপনার সংশয় থাকে বিএনপির ক্ষমতায় আসা নিয়ে তবে আপনি বোকা। সাংবাদিকতার বাইরেও রাজনীতি, কূটনীতির অন্দরমহল, সিভিল-মিলিটারিতে তাদের বিস্তর যোগাযোগ। এরপরও যদি বিএনপি হেরে যায় দু’টি কারণে সেটা হবে:
এক. ক্ষমতায় বসার আগেই এমনকি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগ করে ফেলা। মানে অন্যপদে নিয়োগ তো শেষই।
দুই. যেটা আসলে প্রধান কারণ দলটির নেতা-সমর্থকদের অহমিকা, দম্ভ। নিয়তি দম্ভ পছন্দ করে না।
ঐ সাংবাদিকের মতে ঢাকার ঐ দুই প্রভাবশালী সম্পাদক নিশ্চিত হয়ে গেছেন যে, বিএনপিই ক্ষমতায় আসবে এবং তাদের বক্তব্যে আকারে ইঙ্গিতে তা প্রকাশ পাচ্ছে। এছাড়া ঐ দুই সম্পাদক ইতোমধ্যে বিএনপির প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত দুই সম্পাদকের এই প্রত্যয়ের উৎস ডিপস্টেট, মাঠের বাস্তবতা নয়। বিএনপিও ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে এতটাই নিশ্চিত যে তারা সরকার গঠনসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ বিতরণ করা হয়ে গেছে। ‘বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান একটি পার্টি অফিসের দিকে তাদের কেবলা ঠিক করে ফেলেছেন’ বলে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইঁয়া যে অভিযোগ করেছেন তা অমূলক নয়। এর সত্যতা আমরা প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি। তাই এতকিছুর পরে ‘ম্যানেজড’ নির্বাচনের শংকা উড়িয়ে দেয়ার কোন সুযোগ নাই। রক্ষক যখন ভক্ষক হতে চায় তখন ‘ম্যানেজড’ নির্বাচন প্রতিহত করার একমাত্র উপায় হলো জনতার প্রতিরোধ। এই প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনেই এই ‘ম্যানেজড’ নির্বাচনের সম্ভাব্য গতিপথ কেমন হতে পারে তা জানা দরকার।
চলবে…



