সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস দিয়েছে আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের এই রায়টি ঘোষণা করা হয়।
২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজধানী ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় তারেক রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ৬ জুলাই, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট, আদালত অভিযোগ গঠন করে মামলার কার্যক্রম শুরু করে।
এই মামলাটিতে মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এসব সাক্ষীর মধ্যে ছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্ট ডেবরা লেপরোভেট, যিনি এই মামলায় চার্জশিটের বাইরের একটি সাক্ষী হিসেবে যুক্ত হন।
আজকের রায়ে, আপিল বিভাগ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা ৭ বছরের দণ্ডাদেশটি বাতিল করে তাকে খালাস প্রদান করেছে। এতে আপিল বিভাগের বিচারকরা মামলাটির প্রক্রিয়াতে থাকা বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং সঠিক প্রমাণের অভাবকে গুরুত্ব দিয়ে এই রায় দিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি আগামীতে যদি একইভাবে এই ধরনের আইনি সমস্যার মুখোমুখি হয়, তারা কি এরকম ছাড় পাবে? এটি যে শুধুমাত্র বিএনপির জন্য নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আদালত এবং রাজনৈতিক প্রভাবের সম্পর্ক নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।
বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ উভয় দলই একে অপরকে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। যেখানে একদিকে বিএনপি তারেক রহমানের খালাসকে আইনের প্রতি সম্মান ও ন্যায়বিচারের জয় হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে এই রায় এসেছে।
এছাড়া, এই রায় আওয়ামী লীগকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এর মাধ্যমে তারা বুঝতে পারবে যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে মামলা এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরও আইনি প্রক্রিয়া কখনো কখনো উল্টো ফলাফল দিতে পারে।