কলকাতায় ঈদ উপলক্ষে রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতার সময় ধর্ম বিষয়ে মমতা ব্যানার্জীর মন্তব্যকে ঘিরে আপাতত সরগরম হয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন। যদিও তার নিশানায় ছিল বাম ও গেরুয়া শিবির, কিন্তু তিনি নিজেই এখন বিতর্কের মুখে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বক্তব্যের সময় ভারতীয় সংবিধান যে ধর্মনিরপেক্ষতার উপর জোর দেয় সে কথা যেমন তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তেমনই বাংলার ঐতিহ্যময় ধর্মীয় পরম্পরার কথাও উল্লেখ করেছেন।
মমতা ব্যানার্জী বলেন, ‘দেখুন রামকৃষ্ণ কী বলেছেন, বিবেকানন্দ কী বলেছেন? আমি রামকৃষ্ণের ধর্ম মানি, স্বামী বিবেকানন্দের ধর্ম মানি। কিন্তু আমি জেনে শুনে একটা নোংরা ধর্ম, যেটা এই জুমলা পার্টিরা বানিয়েছে, সেটা মানি না। ওটা হিন্দু ধর্ম বিরোধী।’
উল্লেখ্য, জুমলা কথার অর্থ বাস্তবায়িত হয়নি এমন প্রতিশ্রুতি বা ঠুনকো প্রতিশ্রুতি এবং এক্ষেত্রে তার ইঙ্গিত ছিল বিজেপির দিকে। মূলতঃ হিন্দিতে বক্তৃতা দেয়ার সময় তার ব্যবহৃত ‘গন্দা ধর্ম’ (নোংরা ধর্ম) শব্দই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এখন বিজেপি প্রশ্ন তুলেছে, তৃণমূল সুপ্রিমো সনাতনী ধর্মের বিষয়ে একথা বলতে চেয়েছেন কী না, আর বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, ঈদের মঞ্চকেই কেন বারবার ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ ব্যবহার করা হচ্ছে?
তৃণমূলের অবশ্য দাবি করেছে, মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্যকে ‘বিকৃত করে অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে।
কী বলেছিলেন মমতা ব্যানার্জী?
ঈদের নামাজের পর প্রতিবছরই কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। প্রথা মেনে এইবারও ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি।
নিজের বক্তৃতায় মমতা ব্যানার্জী নাম না উল্লেখ করে সিপিএম ও বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিভাজনের অভিযোগ তোলেন। তবে তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় বিভাজনের কাজ সহজ নয়।
বক্তৃতায় ব্যানার্জী বলেন, আমি দাঙ্গা ফ্যাসাদ চাই না। এটা ওদের পরিকল্পনা, ওদের গেম। আপনারা এতে পা দেবেন না। ওরা যদি কিছু বলে, তাহলে আপনাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের সঙ্গে দিদি রয়েছে। আপনাদের সঙ্গে সরকার রয়েছে।
‘প্ররোচনায়’ পা না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, গান্ধীজী যখন লড়াই করেছিলেন তখন হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ করেননি। আপনারা দেশের বিভাজন চাইছেন? সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলা আছে। নবরাত্রি চলছে, আমি তাদেরও শুভেচ্ছা জানাব, কিন্তু আমি চাই না এর জন্য আপনারা দাঙ্গা করুন। সাধারণ মানুষ এসব করেন না, করে একটা রাজনৈতিক দল। এটা লজ্জার বিষয়।
এরপর বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, আপনি বলেন সবকে সাথ সবকা বিকাশ। আর সংখ্যালঘু দেখলে আপনি পিছিয়ে আসেন।
একাধিক ধর্মনিরপেক্ষতার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। এরপরই তিনি মন্তব্য করেন বিজেপি যে ধর্মের কথা বলে, তিনি তার বিরুদ্ধে- আর এখান থেকেই ‘বিতর্কের’ সূত্রপাত।